নারীদের কাপড় ছিঁড়ে উল্লাস করলো আওয়ামীলীগ কর্মীরা

Loading...

আমার ১১বছরের ক্লাস সিক্সে পড়া স্টুডেন্ট আমাকে জিজ্ঞেস করছে– “ম্যাডাম,আপনি প্রেম করেন.?”” ওর এমন প্রশ্নে বেশ হতভম্ভ হয়ে গেলাম। এতটুকু মেয়ের এই প্রশ্ন করার সাহস হয় কি করে.? – যে কিনা পড়া দিতে গিয়েই ভয়ে সব পড়া গুলিয়ে ফেলে। ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে ১০ সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে উত্তর দিলাম– –এসব কি প্রশ্ন.?? পড়াশোনা বাদ দিয়ে এসব ফালতু ব্যাপার নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হয়.?? কিন্তু ও কেন জানি নাছোড়বান্দা হয়ে গেল। তাই ওকে বলে দিলাম যে -নাহ, প্রেম করিনা।” ও কেন জানি হাফ ছেড়ে বাচলো। তারপর বলতে লাগলো– -” খুব ভাল করেছেন। তাহলে তো আপনি আপনার বিয়ে নিয়ে মোটেও চিন্তিত না, তাই না.?” আজব.!! এ আবার কি কথা.!! প্রেম করিনা বলে কি বিয়েও করবো না..!! ও জোর দিয়ে বলল– – না, ম্যাডাম। প্লিজ আপনি বিয়ে করবেন না। আপনাকে আমি খুব ভালবাসি,শ্রদ্ধা করি।তাই আমি চাইনে,আপনি জীবনে কষ্ট পান। ম্যাডাম, আমি তো প্রমিস করেছি- কখনো বিয়ে করবো না।” ওর কথাগুলো শুনছি, আর আমার কেমন যেন গা গুলানো শুরু হয়েছে। নীতুর দিকে ভালভাবে তাকিয়ে খেয়াল করলাম-‘ ওর চোখে মুখে ভয়ের চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে আছে।” মুখ ফুটে বলে ফেললাম– -কি হয়েছে,নীতূ.?? নীতু অনেকখন চুপ থেকে বলল– – কিছু না। —দেখো নীতু, আজ অব্দি তুমি আমার প্রত্যেকটা কথার সাথে সঙ্গতিপুর্ণ জবাব দিয়েছো।কিন্তু আমার কেন জানি মনে হচ্ছে তুমি আমার থেকে কিছু লুকাচ্ছো।”” কথাগুলো শেষ করার আগেই নীতু আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করল। অনেক কষ্টে ওকে সামলাতে পারলাম। তারপর ও নিজেই বলতে শুরু করলো– -“” জানেন ম্যাডাম,আমার আম্মু গতকাল স্কুলে ক্লাস নিয়ে স্কুলের পরীক্ষার শিডিউল বানিয়ে বাসায় ফিরতে অনেক দেরী হয়ে গেছিল। তাই, রাতের খাবারটা তৈরী করতে আম্মুর আজকে প্রায় সাড়ে এগারো টা বেজে গেছিল। আম্মু রাত্রে ভাল রান্না করতে পারে না। এই কারণে তরকারীতে ভীষণ ঝাল হয়ে যায়। আব্বুর খুব ক্ষুধাও লেগেছিল। এমনিতেই দেরী করে খেতে দিয়েছে, তার উপর ঝাল বেশি। এই নিয়ে আব্বু-আম্মুর মধ্যে খুব ঝগড়া হয়েছে। আব্বু আমার আম্মুর গায়ে হাত তুলেছে। জানো আপু, কাল সারা রাত আম্মু ঘুমায় নি। খুব কান্না করেছে। আম্মু খুব ব্যাথা পেয়েছে। খুব। কিন্তু, আমার গায়ে কখনো আব্বু হাত তোলে নি।

 

 

 

হাজারটা ভুল করলেও মারে নি। কিন্তু, আমি যখনই বিয়ে করবো- সেই লোকটাও তো আব্বুর মত আমার গায়ে হাত তুলবে। আমাকে মারবে। আমি মা’র খেতে পারব না, ম্যাডাম। আম্মুর মত আমি কষ্ট করতে পারবো না। অত ব্যথা আমি সহ্য করতে পারবো না।””– কথাগুলো নীতু বলছে আর ওর গাল বেয়ে টপটপ করে পানি ঝরছে। ছোট্ট এই মেয়েটির মনে এমন এক আতঙ্ক তৈরী হয়েছে- যা তার বাবা মায়েরও দৃষ্টিগোচর হবে কিনা জানি না। তার কাছে বিয়ে মানেই অন্য ছেলের হাতে মাইর খাওয়া,ছোট-খাটো ভুলের জন্য করুণ শাস্তি পাওয়া..”” কিন্তু নীতুর বাবা এটা কিভাবে করলেন সেটাই আমার বোধগম্য হলো না। যেই লোকটা একজন মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক, যার স্ত্রীও একজন প্রাইমারী শিক্ষিকা,সেই শিক্ষিকার গায়ে এভাবে নির্দিধায় হাত তুলে ফেললেন..!! সময়ের সাথে সাথে মানুষের বোঝাবুঝি বাড়ে। আবার কিছু মানুষের মনুষ্যত্বও কমে যায়। কত শত অশিক্ষিত মানুষ গুলাও তাদের সংসারকে টিকিয়ে রেখেছেন পরষ্পরের প্রতি সহনশীল হয়ে।আবার, কেউ কেউ কাড়ি কাড়ি সার্টিফিকেট অর্জন করেও মানুষ হতে পারেনি। আজ আর পড়ানোর মুড এলো না। নীতুকে সান্ত্বনাও দিলাম না। সেটা দেওয়ার ভাষাও আমি হারিয়ে ফেলেছি। ওকে বই গোছাতে বলে আমি বাইরে বেরিয়ে এলাম। বাসার গেইট দিয়ে বেরনোর সময় নীতুর মা’কে ঢুকতে দেখলাম। চোখ গুলো ফুলে ফুলে আছে। চেহারাতে একটা গভীর কালো রেখা চিকচিক করছে। “”কেমন আছেন?” প্রশ্ন করাটা আজ বড় হাস্যকর লাগছে। আমি অত বড় অভিনেতা নই যে–” একজন মানষিকভাবে আহত নারীর আহত হওয়াটা দেখেও না দেখার ভান করে ‘ভাল আছে” কিনা জিজ্ঞেস করে সব প্রমাণ লুকিয়ে যাবো…… লেখিকা::— সুহাসিনী (গেয়োভুত) —— (বি:দ্র:- আমি এটা বলছি না যে,শিক্ষিত মানুষের ব্যবহার খারাপ হয়। তবে, পৃথিবীতে কিছু মানুষ আছে যারা শিক্ষিত হয়েও জ্ঞ্যানকে বিকশিত করতে পারে নি)

 

Loading...

 

 

খীলগাঁও ফ্লাইওভারের নীচ দিয়ে হাটছি… মাঝে মাঝেই গাঁজার গন্ধ নাকে আসছে… কিছুদূরে দেখছি কিছু ছেলেপেলে ছোট পলিথিন ফুঁকছে… ড্যান্ডি নামক এই নেশাটা ছোট বাচ্ছাদের কাছে এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে… একটাকে কাছে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম ”এসব কি খাও??” আমাকে হু কেয়ার’স মুডে রিপ্লাই দিল, ”এইডা আপ্নে বুঝবেন্না নে” জিজ্ঞেস করলাম তোমার মা বাবা তোমাকে বকে না?? বলল, “বাপ আরেক বেডি নিয়া ভাইজ্ঞা গেছে, মা বাইচ্চা নাই… মা মরার পর থেকেই এসব খাওয়া শুরু করছি…” বললাম তোমার এই কষ্টের জীবনের জন্য তোমার মা বাবার উপর কখনও রাগ হয় না?? আমাকে এক বাক্যে উত্তর দিল, ”না” . অথচ ঠিক আমাদের মধ্যেই কিছু মানুষ আছে যারা নিজের ব্যার্থতাকে ঢাকার জন্য অন্যের কাছে মা বাবাকে ছোট করে… নিজের জীবনের খারাপ সময়ের জন্য মা বাবার সামর্থহীনতাকে অপারগতা ভেবে নেয়… আমি নিজের চোখে এমন কিছু মানুষ দেখেছি নিজের পাপের দ্বায়ভার তার মা বাবার উপর ঠেলে দিতে… . আপনি হিজাব বোরকা পড়ে পতিতাবৃত্তি করেন আর টুপি পাঞ্জাবী পড়ে চুরি করেন ইট’স টোটালি আপ টু ইয়ু কিন্ত অন্যের কাছে নিজের এসব অপকর্মকে ফ্যামিলির ইস্যু বানিয়ে নিজের মা বাবার গায়ে দোষ চাপিয়ে নিজেকে সাধু প্রমান করার প্রবনতা অনেকটা মস্তিষ্কহীনতার পরিচয় বহন করে… সমাজে এসব মানুষগুলোর চাইতে রাস্তায় নেশা করা ছেলেটা হাজারগুন পবিত্র… সে এখনও রাত হলে তার পকেটে রাখা পলিথিনে মোড়ানো মায়ের ছিড়ে যাওয়া ছবিটা দেখে আর ড্যান্ডি ফুকে, অন্যদিকে আপনি তখন আপনার মায়ের হাতে এক গ্লাস গরম দুধ খেয়ে তাকেই অন্যের কাছে আপনার কৃতকর্মের বলি বানাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন… . ছেলেটির ড্যান্ডি খাওয়া প্রায় শেষ, আমি তার পাশে বসে আছি অনেক্ষন যাবত… বললাম চল দুজনে হাটি… দুজন সামনে হাটছি আর সোডিয়াম লাইটগুলো আমাদের বিপরীতদিকে হাটছে… ছেলেটির পিঠে চাপড়ে দিয়ে বললাম, “চল তোর মায়ের কবরের দিকে যাই…” ছেলেটি বলল, “মায়ের কবর তো নাই…”

 

Loading...

 

 

. এক কংকাল ব্যবসায়ী নাকি দেড় হাজার টাকা দিয়ে লাশ কিনে নিয়ে গেছে… ছেলেটির মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম পৃথিবীর বুকে তার মায়ের কোন চিহ্ন খুজে না পাওয়ার হাহাকারের ছাপ… ছেলেটির কাঁধে দুই হাত রেখে বললাম, আরে বোকা! যারা মারা যায় তারা পৃথিবীতে থাকে না… তারা থাকে আকাশে… এখন রাত দশটা বেজে তের মিনিট… দুজনেই হাটছি আকাশের সন্ধানে… এই শহরে কোন আকাশ নেই, সুবিশাল আকাশ ঢেকে গেছে ফ্লাইওভার আর উঁচু মিনারে

Loading...

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *