আওয়ামীলীগে যোগ দেয়া নিয়ে সরাসরি মুখ খুললেন মাশরাফি, যা বললেন দেখুন বিস্তারিত..

Loading...

ফজরের আজান দিতেই তুলির ঘুম ভেঙে যায়, তুলি আসতে আসতে বিছানা থেকে উঠে যায়, যেন আবিরের ঘুমে বিরক্ত না হয়। সারাদিন অফিসের কাজ করে রাতে যেটুকু সময় পায় এটাই আবিরের বিশ্রাম নেয়ার সময় তাই তুলি যথাসম্ভব চেষ্টা করে যেন আবির বিরক্ত না হয়। ফ্রেশ হয়ে তুলি চুলায় গরম পানি বসায় তার শাশুড়ির জন্য। একটু পর সে নামাজের জন্য উঠবে। বয়স্ক মানুষ এই শীতে যেন কষ্ট না পায় তাই তুলি প্রতিদিনি গরম পানি করে দেয়ার চেষ্টা করে। অজু করে তুলি নামাজ টা পড়ে নিল। চুলায় চায়ের পানি বসিয়ে শাশুড়ি কে ডাকতে যায় নামাজের জন্য। এসে নাস্তা বানাতে শুরু করে। আবির, প্রতিদিন এক নাস্তা পছন্দ করে না তাই প্রতিদিন ভিন্নভিন্ন নাস্তা বানাতে হয়। এক্ষেত্রে তুলি তার দেবর ননদেরও ইচ্ছার প্রাধান্য ও দেয়। তাই প্রতিদিন সকালে ৩-৪ প্রকার নাস্তা বানাতে হয় তার। সবাই খাবার টেবিলে খাচ্ছে, তুলি খাবার বেরে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কারো কিছু লাগবে নাকি। যে যার মত খেয়ে চলে যায়। আবির তুলির ৭ বছরের একটা মেয়েও আছে। সকাল সকাল তুলি শত ব্যস্ততার মাঝেও মেয়েকে রেডি করে টিফিন দিয়ে স্কুলে পাঠিয়ে দেয়। আবিরও অফিসে চলে গেলো। খাবার টেবিল মুছে থালাবাসন গুলো ধুতে ধুতে ৯ টা বেজে যায়। মোটামুটি সকালের কাজ শেষ। এতক্ষণে তুলির সকালের নাস্তা করার সময় হলো। ননদ, দেবর যে যার মত কলেজ ভার্সিটি তে চলে গেছে। বাসায় তুলি আর তার বয়স্ক শাশুড়ি। কাজের ব্যস্ততা কমলে সে তার শাশুড়ির সাথেই গল্প করে সময় কাটায়। দুপুরের জন্য রান্না বসাতে হবে। দু তিন পদের তরকারি প্রতিদিনি করতে হয় তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে আইটেম সংখ্যা বাড়ে। তুলি নিজের হাতেই সব কাজ করতে ভালবাসে। দুপুর গড়িয়ে যাবে একটু পর তাই তুলি দ্রুত হাত চালাচ্ছে। একা মানুষ এক হাতে আর কত দিকই বা সামলায়! তবুও তার সব টা নিজেকেই করতে হয়। দুপুরের কাজ শেষ। মেয়ে, ননদ বাসায় ফিরেই খাবারের জন্য বায়না ধরে তাই তুলি আগেভাগে সব কিছু রেডি করে রাখে।

 

 

 

দুপুরের খাওয়া শেষে যে যার মত বিশ্রাম নেয় আর তুলি আবার সেই থালাবাসন ধোয়া, সব কিছু পরিষ্কার আছে কিনা সেদিকে বার বার লক্ষ্য করে। দুপুরের কাজ শেষ হতেই তার শাশুড়ি তাকে ডাকাডাকি করে একটু মাথায় বিলি কাটতে। তুলিও চলে যায় শাশুড়ির কাছে। সারাদিনের ব্যস্ততায় অবসরে তুলির চোখ নেমে যায় তবুও তুলি বসে আছে। আছরের আজান ইতোমধ্যে দিয়ে দেয়। নামাজ পরে মেয়েকে নিয়ে ২০মিঃ এর জন্য একটু তুলি বাসার নিচে যায়। মেয়েটা একটু খেলাধুলা করে। এ বয়স টাই তো খেলাধুলার। তুলির কিছুটা বিরক্ত লাগলেও সয়ে যেতে হয়। বাসায় ফিরে আবারো রান্নাঘরে। সন্ধায় আবির বাসায় ফিরলেই চা চা করে বাড়ি মাতোয়ারা করে তোলে। তাই আবিরের আসার আগেই তুলি চায়ের পানি আর তার সাথে নাস্তা বানিয়ে রাখে। আবির আসা মাত্রই তুলি খাবার গুলো দিয়ে আসে আবিরকে। আবির ফ্রেশ হয়ে এসে টিভির সামনে বসে নাস্তা খায় আর টিভি দেখে। এদিকে ছোট মেয়েটার খুব ইচ্ছা বাবার কাছে পড়তে বসবে। তুলি আবিরকে বলে, – মেয়েটাকে নিয়ে তো একটু পড়তে বসাতে পারো! কতক্ষণ ধরে বায়না করছে। – তুমি নিয়ে বসতে পারোনা? সারাদিন তো বাসায় শুয়ে বসে খাও টের পাওনা তাইনা? যত্তসব! কথা টা তুলিকে খুব আঘাত করে, তুলি চুপচাপ শুনে যায়। আবির মাঝেমাঝে এভাবে কথা বলে। সে মনে মনে ভাবে, “আমি কি সংসারের কিচ্ছু করিনা! থাক অফিস থেকে কাজ করে আসে মন মেজাজ ভালো থাকেনা ” তাই তুলি আর কিছু বলেনা। মেয়েকে নিয়ে পড়তে বসেছে তুলি। বই গুলো দেখলেই তার বড্ড মায়া লাগে। একসময় সে ও এই জীবন টা পার করে এসেছে এই ভেবে মন খারাপ হয় তুলির। কত্ত আশা স্বপ্ন ছিল তুলির, সব এখন সংসারের অতলে তলিয়ে গেছে, তুলি চাই ও না তা আর মনে করতে। তবুও এই অনাকাঙ্ক্ষিত সত্য টা তাকে মাঝেমাঝে তাড়া করে বেড়ায়। আচ্ছা বিয়ে নামক একটা সম্পর্কে মেয়েদের আবদ্ধ হওয়া মানেই কি নিজের স্বপ্ন, নিজের সত্বা কে গলা টিপে হত্যা করা! তুলি সারাদিন সাংসারিক কাজে ব্যস্ত থাকার পরেও দিন শেষে নিজস্ব মুহুর্ত বলে যে একটা সময় আছে সে সময় টা তুলিকে মনে করিয়ে দেয় তার আকাঙ্ক্ষিত সপ্নের কথা। এখন সে মেনে নিয়েছে নিজের ভাগ্যকে, নিজের সংসারকে। সংসারের জন্য কিছু করতে পারাই এখন তার পরম প্রাপ্তি। সে নিজেকে মেয়ে হিসেবে মানিয়ে নিয়েছে সেক্রিফাইসের বস্তা। হ্যা প্রত্যেক টা মেয়েই একেক টা সেক্রিফাইসের বস্তা। তারা মেনে নিতে পারে, মানিয়ে নিতে পারে।

 

 

Loading...

 

তারা নিজের কথা না ভেবে আগে পরিবারের কথা ভাবে। এতে তাদের কোনো স্বার্থ থাকে না। থাকে শুধু প্রিয়জনের প্রাপ্তিতে নিজের মুখে হাসি নিয়ে আসা। তবে আমাদের কি একটু বোঝার দায় নেই, এই সেক্রিফাইসের বস্তা গুলোরো একটা নিজস্ব ভুবন থাকতে পারে, তাদেরও একটা ফ্যান্টাসি জগত থাকতে পারে, থাকতে পারে ছোট বেলার কিছু ছোট ছোট স্বপ্ন! যা এখন আপনার মেয়ে দেখে বা আপনি আপনার মেয়েকে যেই স্বপ্ন বুনতে উৎসাহিত করেন! একটু ভেবে দেখুন, সে আপনার সংসারের জন্য কত কি করতেছে আর তার বিনিময়ে সে কি পাচ্ছে!ডেনমার্কের মানুষদের মধ্যে একাকিত্ব জনিত ডিপ্রেশনের হার এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে ডেনমার্ক সরকার বাধ্য হয়েছে ডেনিশদের জন্য ” লেটস ইট টু গেদার” নামক প্রোগ্রাম চালু করতে। এই প্রোগ্রামের লক্ষ হচ্ছে ডেনিশ মানুষ লাঞ্চ বা ডিনারের সময় কোন পাবলিক পার্কে বা উদ্যানে একসাথে অনেক মানুষ বসে একসাথে গল্পগুজব করতে করতে খায়। আগে থেকে চেনা জানা না থাকা সত্ত্বেও। ঠিক যেমন টা দেখা যায় আমাদের দেশে রোজার মাসে ইফতারির সময় বাস ,লঞ্চ ,স্টিমারে। দেখেছেন ,আল্লাহ বান্দার সব দিকেই নজর রাখেন। এমন কি মানসিক শান্তির দিকেও। একাকিত্বের সবচাইতে ভয়াবহ ফ্যাক্ট হচ্ছে একাকিত্বের সাথে আপনার কয়জন বন্ধু আছে প্রেমিক প্রেমিকা আছে কিনা এর কোন রিলেশান নাই। একজনের প্রেমিক থাকতে পারে এক হালি দোস্তও থাকতে পারে। স্টিল সে একাকিত্বে আক্রান্ত হতে পারে। বরং আশেপাশে অনেক বন্ধু থাকার পরেও যে মানুষটা একা তার একাকিত্বের কষ্টটা সবচাইতে বেশী। কারণ সব থাকার পরেও সে একা। তার বন্ধু আছে কিন্তু মনের বন্ধু নাই ,তার প্রেমিক আছে কিন্তু মনের মানুষ নাই। এই ধরণের মানুষরা হাসিমুখে প্রেম করে ,হাসিমুখে আড্ডা মারে আর দিন শেষে ভেজা চোখ মুছে বলে – যাহা চাই তাহা পাইনা। যাহা পাই ভুল করে পাই। একাকিত্ব মানুষ কে অন্ধকার প্রিয় করে ফেলে। অভিমানি করে ফেলে। সে প্রেমিকের উপর অভিমান করে। বন্ধুদের উপর অভিমান করে।

Loading...

 

 

 

শেষমেষ যখন দেখে তার এই অভিমানের প্রতি কেউ এটেনশন দিচ্ছেনা। তখন নিজের উপর অভিমান করে। অন্ধকার কোণে লুকিয়ে যায়। আরো মজার ফ্যাক্ট হচ্ছে একাকিত্ব জনিত সমস্যায় ভোগা ৬০% মানুষই বিবাহিত। কি অদ্ভুত। একটা ঘর আছে পরিবার আছে বাচ্চা কাচ্চা আছে। ফেসবুকে ওয়েডিং ফটোস আছে ,ব্রাইডাল শাওয়ার আছে একটা নরম বিছানা আছে কিছু প্রাকৃতিক চাওয়া পাওয়া আছে কিন্তু দিন শেষে দুইজনের মনের মানুষ নাই। প্রেম করলেও মনের মানুষ পাওয়া যায়না ,বিয়ের পেপারে সাইন করলেই মনের হয়ে যায়না। মনের মানুষ পাওয়া অনেক সাধনার ব্যাপার্। এ কারণেই সাঁইজি বলেছেন চাতক প্রায় অহর্নিশী চেয়ে আছে কালো শশী হব বলে চরণদাসী মিলন হবে কত দিনে মনের মানুষেরও সনে আমি মাঝে মাঝে নিজেকে জিজ্ঞেস করি মানুষ হিসেবে আমাদের এই পৃথিবীতে আগমনের প্রাইম পারপাস কি? উত্তর টা আমি একটাই পাই। মানুষ হিসেবে আমাদের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের আপনজনদের একা ফিল করতে না দেয়া। আপনি প্রেমিক থাকা সত্ত্বেও যদি আপনার প্রেমিকা একাকিত্বে ভোগে আপনি স্ত্রী থাকা সত্বেও যদি আপনার স্বামী একাকিত্বে ভোগে আপনি বন্ধু থাকা সত্বেও যদি আপনার বন্ধু একাকিত্বে ভোগে তাহলে আপনি ব্যার্থ প্রেমিক ,ব্যার্থ স্ত্রী এবং ব্যার্থ বন্ধু। শুধু দুইবেলা খাওয়া,প্রতি উইকে ডেটিং ,বাচ্চা কাচ্চা মানুষ করা আর টাকা পয়সা আপনজনের মাথার উপর ঢাইলা দেয়াটাই মানবজীবনের চরম উতকর্ষতা না রে ভাই। স্পিরিট বলে একটা শব্দ আছে। আপনি আপনার আমরা আমাদের আত্মার সাথে কতটা এটাচড এটা দিন শেষে নির্ধারণ করে আসলে মানুষ হিসেবে আমরা কতটা ভাল আছি। নাকি একা আছি। খুব একা। নাহলে আপনার প্রেমিকা, আপনার হাজব্যান্ড আপনার বন্ধু কিংবা আপনিও দিনশেষে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলবেন এ পৃথিবীরে ৭০০ কোটি মানুষ আছে , আমার মনের মানুষ নাই।তুমি আমি হতে পারতাম পৃথিবীর সুখি সেরা জুটি। এটা তুমি নিজেও জানতে তবু মানতে করলে ত্রুটি।

 

 

 

বড্ড করেছি দেরি বলে চলে গেলে বহুদুর ছুটি। আমায় ছেড়ে ধরলে অন্য হাত করলে খুনসুটি। অবহেলা আর অনাদরের কষ্টে খাই যে লুটোপুটি। দেখবে আমিও একদিন করবো জয় সুখ নিবো সব লুটি।

Loading...

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *