নারী দিবস উপলক্ষে নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বললেন অপু বিশ্বাস |

Loading...

জীবনসঙ্গি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রত্যেকেরই স্বতন্ত্র কিছু পছন্দ-অপছন্দ থাকে, চাওয়া-পাওয়া থাকে, হিসেব-নিকেশ থাকে। নিজের ব্যক্তিগত-পারিবারিক আর ভবিষ্যতের সাথে সমন্বয়সাধন করেই এই পছন্দ-অপছন্দ, চাওয়া-পাওয়া নির্ণীত হয়। আবেগের বশবর্তী হয়ে যেনতেনভাবে যে কারো প্রেমে পড়া যেতে পারে, কিন্তু হুটহাট করে কাউকে জীবনসঙ্গি করা যায় না। তাই অনেক ভেবে, সবদিক বিচার-বিশ্লেষণ করেই কেউ কাউকে স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে সম্মত হয়। . বলতে গেলে, প্রতিটি মানুষই স্বতন্ত্র। প্রত্যেকের মাঝেই কিছু আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে। একজনের পছন্দ- অপছন্দ, চাওয়া-পাওয়া আর হিসেব-নিকেশের সাথে অন্যজনের মিলতে পারে, আবার নাও মিলতে পারে। যে কারণে একজন পাত্র বা পাত্রীকে কারো পছন্দই হয় না, আবার কারোবা এক দেখাতেই পছন্দ হয়ে যায়। কেউ একটি পরিবারের সাথে আত্মীয়তাই করতে চায় না, আবার কেউ ওই পরিবারের সাথে আত্মীয়তা করতে ইচ্ছুক থাকে। এখানে আসলে উভয়ের চাওয়া-পাওয়ার হিসেব মেলা না মেলাটাই বড় ভূমিকা রাখে। মিললে জীবনসঙ্গি হয়, আত্মীয়তা হয়; আর না মিললে হয় না। একদমই সহজসরল হিসেব। . কথা হচ্ছে, সবদিক বিচার-বিশ্লেষণ করে যে দুটো ছেলে-মেয়ে পরস্পরকে জীবনসঙ্গি করতে সম্মত হল, আমাদের তো উচিত, তাদের সেই সম্মতির প্রতি সাধুবাদ জানানো।

 

 

 

Loading...

আমরা কেন উল্টো তাদের জীবনসঙ্গি নির্বাচনের যথার্থতা আর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলি? আমরা কেন তাদের জীবনসঙ্গির শিক্ষা, গায়ের রং, উচ্চতা, কথাবলা, হাঁটাচলা, পোশাকপরিচ্ছদ, স্মার্টনেস নিয়ে বিদ্রুপ করি? যে দুটো পরিবার উভয়ের মধ্যে আত্মীয়তা করতে ইচ্ছেপোষণ করল, আমাদের তো উচিত, তাদের ইচ্ছের প্রতি সম্মান জানানো। সেটা না করে আমরা কেন ওই পরিবারের বংশমর্যাদা, সামাজিকমর্যাদা, অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করি? আমরা কেন অন্যের পছন্দের প্রতি, ব্যক্তিগত-পারিবারিক চাওয়াপাওয়ার প্রতি বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করি? . যার কাছে যাকে ভালো লাগবে, তাকে সে জীবনসঙ্গি হিসেবে গ্রহণ করবে। সে হতে পারে অশিক্ষিত, কুৎসিত, খাটো, কালো, আনস্মার্ট, হতদরিদ্র। কেউ যদি তার জীবনসঙ্গিকে নিয়ে ভালো থাকে, সুখে থাকে, তোমার তো তাতে খুশি হওয়ার কথা। খুশি থাকতে না পরলে চুপচাপ তো পড়ে থাকতে পার। অন্যের বউ আর স্বামীর ভালো থাকা, সুখে থাকা নিয়ে যদি তোমার চুলকানি থাকে, তাহলে যত খুশি নিজে নিজে দিনরাত একাকী চুলকাও। একা পেরে না ওঠতে পারলে বউ-বাচ্চাকেও চুলকানির কাজে লাগাও। তা না করে তোমার চুলকানি অন্যদের সামনে প্রদর্শন করে কেন তা অন্যদের মাঝে ছাড়াও? কেন অন্যের ভালো থাকা, সুখে থাকার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি কর? কেন অন্যের অনুভূতিকে আঘাত কর? কারো একান্ত ব্যক্তিগত-পারিবারিক বিষয়ে নাক গলানোর অধিকার কি তোমার আছে?

 

 

বিদির্ণ সম্পর্ক (পর্ব-৩) …………. এতটা স্থির ওকে আমি কখনো দেখিনি,ও ভেতরে ভেতরে কতটা দুমড়ে গেছে আমি টের পাচ্ছিলাম ওর নিঃশ্বাসের শব্দ! -“নিবিতা আমাকে ছেড়ে যেও না প্লিজ।” ও চুপ করে আছে এক দৃষ্টিতে,দরদর করে চোখ থেকে পানি পরছে। রিক্সা থেকে নেমে সোজা বাড়ির দড়জায় কড়া নাড়লো নিবিতা। দড়জা খুলে দাড়ালো আমার মা। -“আন্টি আপনার ছেলের বউ কোথায়? একটু ডেকে দিন কথা বলবো।” -“নিবিতা তুমি শান্ত হও,ভেতরে এসো মা।” -“শান্ত! এমন অবস্থাতেও শান্ত থাকতে বলছেন?!” কথা বলতে না বলতেই মারিয়া সামনে এসে দাড়ালো। -“এই মেয়ে, অনয় তোমাকে রেপ করেছে?” -“আপু আমাকে অজ্ঞেন করে রাখা হয়েছিলো, তবে আমার আবছা মনে আছে অনয় ভাই আমার সঙ্গে জোরাজুরি করছিলো।” আমি:-“মিথ্যা বলতে লজ্জা করে না তোমার? কত মিথ্যা বলবে! রেপ করিনি আমি।” নিবিতা:-“রেপ করোনি,করতে তো চেয়েছো?” আমি:-“আজ অবধি তোমার গায়ে আমি হাত দিয়েছি? বলতে পারবে?” নিবিতা:-“আমার গায়ে হাত দেবার মতো আকর্ষণ হয়তো নেই আমার।” আমি:-“নিবিতা প্লিজ, তুমি অবিশ্বাস করলে আমি মারা যাবো।তুমিই বলো আমাকে অজ্ঞান অবস্থায় পেয়ে কি করে বলতে পারে যে আমি রেপ করতে চেয়েছি!” মারিয়া:- “আমি আপনাকে ধাক্কা দিয়েছিলাম, এমনি আপনি এডিকটেড ছিলেন আর আপনার জ্ঞান হরায়।” আমি:-“চুপ থাকো, কত আর নাটক করবে? কেন করছো আমার সঙ্গে এমনটা, আমার জীবনটাকে নিয়ে কেন খেলছো?” মারিয়া:-“আমি বলেছি তো আমি চলে যাবো, ক্ষতি তো আর আপনার নয়।” এই বলে কান্না শুরু করলো। আমি:-“বন্ধ করো তোমার ন্যকা কান্না।” নিবিতা:-“আমি আসি।” নিবিতাকে পিছ থেকে অনেক বার ডেকেছি ফিরেনি, ওর বাসা পর্যন্ত ওর পিছে পিছে গেলাম।ঢুকতে দেয়নি আমাকে। মোবাইলে কল করে যাচ্ছি ধরছে না। শুধু একটা ম্যসেজ ছিলো- “আমি লুজার নই তোমার জন্য নিজের ক্ষতি করে আমার ভালোবাসার প্রমান দিবো না। নিশ্চিন্তে বাড়ি যাও, সংসার সাজাও।” এতটা অসহায় কখনোই লাগেনি আমার,মনে হচ্ছে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রাণী। এতটা নিঃস্ব আমি! আকাশটা ফেটে আগুন বর্ষণ হচ্ছিলো আমার উপর…. এত বড় শাস্তি পেতে হলো কোন অপরাধের!? আমি হাঁটতে শুরু করলাম, জানি না কোথায় যাচ্ছি! ভিষণ কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছে। রাত ২ টায় বাড়িতে ফিরলাম,মা দরজা খুলে আমাকে বুকে জড়িয়ে নিলো, -“বাবা, তুই এসে পরেছিস। আমরা কত চিন্তা করছিলাম,ফোন বন্ধ।” আমি মাকে জড়িয়ে বাচ্চাদের মতো কাঁদতে লাগলাম। -“মা বিশ্বাস করে আমি কিচ্ছু করিনি, নিবিতা আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। আমি কি নিয়ে থাকবো? মা নিবিতাকে ছাড়া আমি বাঁচবো না মা। আমি কোনো দোষ করিনি!” মা আমার চোখ মুছে বলল –

 

Loading...

 

 

“নিবিতা তের ঘরে বসে কাঁদছে, যা ভিতরে যা।” আমি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না! -“মা, ও কি সত্যিই এখানে?” মা হাসি দিলো, আমি দৌড়ে আমার ঘরে গিয়ে দেখি ও আমার শার্ট বুকে নিয়ে কাঁদছে।আমি ওকে পিছ থেকে জড়িয়ে ধরি। -“I Love you….নিবিতা, সত্যি বলছি তোমাকে।” ওর চোখে চাঞ্চলতা ফিরে এলো… -“তুমি কোথায় ছিলে? আমি কত্তবার ফোন দিয়েছি,কত জায়গায় খুঁজেছি! এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছে আমি তোমাকে হাড়িয়ে ফেলেছি!” -“আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না,প্লিজ বিশ্বাস করো আমি মারিয়াকে রেপ করতে চাইনি।” -“আমি জানি। ও চলে গেছে ও তোমার জীবনে আর কখনো আসবে না, কিছুদিনের মধ্যেই ডিভোর্স লেটারটা পাঠিয়ে দিবে বলেছে।” -“কিন্তু, ওর বাবা-মা কি আমাকে ক্ষমা করবে? ওরা তো ভাবছে আমিই দোষী। আমার জন্য ওর জীবন বিপন্ন।” -“আমি বাসায় যাওয়ার পর আমার কাছে রুহি একটা ডাইরি নিয়ে আসে,যেটা ছিলো মারিয়ার। মারিয়ার এ ডাইরিটা ও ক্যন্টিনে ফেলে যায়,রুহি দুষ্টুমি করে ওটা লুকিয়ে রাখে কিন্তু ওর ডাইরি হাড়ানোর অস্থিরতা দেখে রুহি ওর ডাইরিটা পড়ে আর পড়েই ও সঙ্গে সঙ্গ এটা আমার কাছে নিয়ে আসে। আর ভাগ্যটা ভালো সময় মতো পেয়েছি ডাইরিটা। তারপরই তোমায় খুঁজতে খুঁজতে ছুটে এলাম।

Loading...

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *